নবিজির মুখমণ্ডল দেখতে কেমন ছিলো prieopathak (প্রিয় পাঠক)

আপনি কী জানেন যে নবিজির মুখমণ্ডল দেখতে কেমন ছিলো

ইসলামিক উক্তি

আপনি কী জানেন যে নবিজির মুখমণ্ডল দেখতে কেমন ছিলো

কথা বলার সময় মানুষের ঠোট, চোখ সবচেয়ে বেশি নড়ে। তাই কারও সঙ্গে কথা বলার সময় ছোটদের চোখ সেদিকেই থাকে। আসুন তবে দেখি, ছোটদের চোখে কেমন ছিল নবিজির মুখমণ্ডল।

যাদের ঘুম কম হয়, সাধারণত তাদের চোখ লালচে থাকে, কিন্তু নবিজির চোখ মোটেও তেমন ছিল না। তার চোখের গোলক আর মণির মাঝে ছিল পাতলা অথচ স্পষ্ট বিভাজন রেখা। চোখের তারা ছিল ঘন কালো। দৃষ্টিনন্দন লালাভ সাদা অংশ দিয়ে ঘেরা। আল্লাহ তাঁকে অসম্ভব সুন্দর দুটো চোখ উপহার দিয়েছিলেন। তাঁর চোখজোড়া ছিল বাংলায় বললে অনেকটা পটোলচোরা। চোখের পাপড়ি ছিল লম্বা। ভ্রু ছিল ঘন, দিঘল ও আলাদা।

তাঁর মুখাবয়ব ছিল পরিমিত পরিমাণে প্রশস্ত। দাঁতগুলো উঁচু-নিচু ছিল না। দুই দাঁতের মাঝে অসম ফাঁক ছিল না; দাঁত ছিল উজ্জ্বল। কোনো কোনো বিবরণ শুনলে মনে হতে পারে, সারাদিন বুঝি তিনি দুঃখ ভারাক্রান্ত বা গম্ভীর হয়ে থাকতেন, কিন্তু একজন বলছেন‘ আল্লাহর রাসূলের চেয়ে আর কাউকে বেশি হাস্যোজ্জ্বল দেখিনি।’ আব্দুল্লাহ বিন হারিস বলেছেন- ‘আমার সঙ্গে যখনই নবিজির দেখা হতো, তিনি হাসিমুখে থাকতেন। মুখ পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন নবি মুহাম্মাদ (সা.) আরাক গাছের ডাল দিয়ে বানানো মিসওয়াক বা মাজন দিয়ে তিনি নিয়মিত দাত মাজতেন। প্রাচীন সময় থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে এটি প্রিয়। এখন তো একে অর্গানিক বা প্রাকৃতিক পণ্য মনে করা হয়।

নবিজি কথা বলতেন স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ উচ্চারণে। কথা বলার সময় তাড়াহুড়ো করতেন না। ধীরে ধীরে প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদা করে বলতেন। মা আয়েশা (রা.) তার কথা বলার এই বিশেষ ভঙ্গি প্রসঙ্গে বলেছেন

“তোমরা যেমন এখন তড়িঘড়ি করে কথা বললা, নবি সেভাবে কথা বলতেন না। তিনি কথা বলতেন স্পষ্টভাবে, শুদ্ধভাবে। তার সঙ্গে বসা প্রত্যেকেই তার প্রতিটি কথা মনে রাখতে পারতেন।

নবিজির সঙ্গে থাকা লোকজন ছিলেন অনেকটা অডিও-রেকর্ডারের মতো কান খাড়া করে শুনতেন তাঁর প্রতিটি শব্দ। তিনিও সুন্দর করে, আস্তে-ধীরে ভেবেচিন্তে শব্দ চয়ন করতেন। তাঁর কথাগুলো আত্মস্থ করতে শ্রোতাদের সময় দিতেন। কোনো কোনো কথার গুরুত্ব বোঝাতে কখনো কখনো তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন, যেন কোনোভাবেই কেউ ভুলে না যায়।

সাহাবিদের সদুপদেশ দেওয়ার বেলায় তাদের মন-মেজাজ ও চরিত্রকে বিবেচনায় রাখতেন। এ জন্য দেখা যায়, তিনি একই প্রশ্নের জবাবে একেকজনকে একেক উপদেশ দিচ্ছেন। যেমন : কাউকে হয়তো বলছেন, তোমার মেজাজ ঠান্ডা রাখো। আবার কাউকে বলছেন, পরিণাম ভেবে কাজ করো। কারণ, প্রথমজন হয়তো বিরূপ পরিস্থিতিতে মেজাজ ঠান্ডা রাখতে পারে না। এ জন্য তাকে এই উপদেশ দিয়েছেন। আবার দ্বিতীয়জনের সমস্যা ভিন্ন, তাই তাকে দিয়েছেন ভিন্ন পরামর্শ। এ জন্য সিরাত বা নবিজির জীবনী নিয়ে পড়াশোনার বেলায় পরিবেশ-পরিস্থিতি, ঘটনার কালানুক্রম বোঝা জরুরি। কিন্তু দেখা যায় অনেকেই মুখস্থ সিরাত পড়েন বা বর্ণনা করেন, যে কারণে এ সম্বন্ধে তাদের বুঝ হয় ভাসাভাসা ও একমুখী।

নবিজি দৈহিক অবয়ব এত বিস্তারিতভাবে সংরক্ষিত যে, তাঁর বুকের লোম কেমন ছিল, তা-ও জানা যায়। প্রথম দর্শনে একজন মানুষের মাথার চুলও আমাদের নজর কাড়ে। চলুন দেখি, কেমন ছিল তার চুল… ।

আপনি কী জানেন যে নবিজির মুখমণ্ডল দেখতে কেমন ছিলো

প্রিয় পাঠক

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *