কেমন ছিল মহানবী (সা.)-এর ব্যবহার prieopathak

কেমন ছিল মহানবী (সা.)-এর ব্যবহার

ইসলামিক উক্তি

কেমন ছিল মহানবী (সা.)-এর ব্যবহার

মনে করুন, আপনি কোথাও একটা জনকল্যাণমূলক কাজে গিয়েছেন, কিন্তু গিয়ে বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়লেন। স্থানীয়রা আপনার ওপর লাঠিসােটা, ইটপাটকেল নিয়ে এগিয়ে এলাে। এলােপাথারি মেরে আপনাকে এলাকাছাড়া করল। আপনার গায়ের বিভিন্ন জায়গা কেটে দরদর করে রক্ত পড়ছে। যন্ত্রণায় টেকা দায়। থানার ওসি আপনাকে ভালাে জানেন পেয়ে ছুটে এলেন আপনার সহায়তার জন্য। বললেন ‘ভাই, বলেন তাে এলাকাবাসীর ওপর অ্যাকশন নিই। সবাইকে অবাক করে দিয়ে আপনি বললেন- ‘দরকার নেই ভাই। হয়তো এদের পরের প্রজন্ম আমার কথা বুঝবে।

বাস্তব মনে হচ্ছে না, তাই না? আমার মনে হয় না, কোনাে মানুষের পক্ষে বিরােধীদের প্রতি এত দরদি ও নিঃস্বার্থ হওয়া সম্ভব। অথচ, আমাদের প্রিয়নবি মুহাম্মাদ এমনটিই করেছিলেন।

কথায় কথায় মা আয়েশা (রা.) একদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, উহুদের লড়াইয়ের দিনের চেয়ে জীবনে আর কোনাে বিভীষিকাময় দিন এসেছিল কি না? আপনারা অনেকেই জানেন, নবিজির আদেশ না মানায় সেদিন লড়াইতে জয়ী হতে হতেও খুবই মর্মান্তিক অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল মুসলিম বাহিনী। তার শিরােস্ত্রাণ ভেঙে গিয়ে রক্তে জবজবে হয়ে গিয়েছিল মুখ। ভেঙে গিয়েছিল সামনের পাটির দাঁত। এমনকী দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে বসে পড়েছিলেন তিনি। মুহাম্মাদ মারা গিয়েছেন বলে একটা গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল। এ জন্য স্বভাবতই আয়েশা (রা.)-এর কাছে মনে হয়েছিল, এটাই বুঝি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম দিন। কিন্তু কী আশ্চর্য! নবিজি জানালেন, এর চেয়েও কঠিন দিন তাঁর জীবনে এসেছিল। সেদিন তায়েফে ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তিনি যে অসহায় পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন, সেটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সংকটময় পরিস্থিতি। সেদিন এতটাই ভয়ানক ছিল যে, ফেরেশতারাও ফুসে উঠেছিলেন। আল্লাহর হুকুমে জিবরাইল (আ.) পাহাড়ের ফেরেশতাদের নিয়ে এসে বলেছিলেন শুধু হুকুম করুন, দুই পাহাড়ের মাঝে পিষে ফেলি এ নরাধমদের। কিন্তু নবি মুহাম্মাদ বললেন এরা বােঝেনি, হয়তাে এদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকই বুঝবে। কোনাে প্রতিশােধের লালসা নেই, অহংবােধ নেই। মানুষগুলাে প্রাপ্য শাস্তি পাক- এটাও তার ইচ্ছায় নেই। তার কাঁধে যে অনেক বড়াে দায়িত্ব। এখন অনেক বড়াে বড়াে বিষয়গুলােও তাঁর কাছে তুচ্ছ। তিনি তাে কোনাে রাজনৈতিক যুদ্ধে নামেননি যে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পারলেই তৃপ্ত। বােমা মেরে নিরস্ত্র মানুষদের উড়িয়ে দেওয়ার রােমাঞ্চকর মিশনেও তিনি নামেননি। তাঁর চাওয়া কেবল একটাই- পৃথিবীর সব মানুষ আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করুক। তাঁকে মেনে নিয়ে জান্নাতে নিজেদের নিবাস গড়ে নিক। এমন মহতি মিশনের জন্য চাই সুশিক্ষা, সহিষ্ণুতা, দয়া।

আরেকটি ঘটনা বলি অনেকেই জানেন, নবিজি নামাজে কী পরিমাণ শান্তি পেতেন। আপন মানুষের সঙ্গে সময় ভুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে আমরা যে শান্তি পাই, নামাজে তার চেয়েও অনেক বেশি তৃপ্তি পেতেন তিনি। সেই নামাজে দাঁড়িয়ে যদি তিনি শুনতেন- আশেপাশে কোনাে বাচ্চা কাঁদছে, তাহলে নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন। বাচ্চা কাঁদলে বাচ্চার মায়েরও কষ্ট হয়। তাদের দুজনের কথা চিন্তা করে কুরবান করে দিতেন নিজের শান্তি। বাচ্চাদের প্রতি এমনই দরদি ছিলেন আমাদের প্রিয়নবি মুহাম্মাদ (সা.)।

কেমন ছিল মহানবী (সা.)-এর ব্যবহার

প্রিয় পাঠক

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *