নবিজির চুল কেমন ছিলো আসুন জেনে নিন prieopathak (প্রিয় পাঠক) Motivational speech and stories

নবিজির চুল কেমন ছিলো আসুন জেনে নিন

ইসলামিক উক্তি

নবিজির চুল কেমন ছিলো আসুন জেনে নিন

কেউ একজন শিশু নবিজির দিকে তাকালে দেখত- সুন্দর, পরিপাটি নিকশ কালো চুল। তার চুল কোঁকড়ানো ছিল না, ভাঙাও ছিল না। সামান্য বাঁকানো ছিল। কখনো কখনো তা কান পেরিয়ে কাঁধ পর্যন্ত পৌছাত।

একজন ষাটোর্ধ্ব মানুষ হিসেবে তার সাদা চুলের সংখ্যাও ছিল কম; মাত্র ২০টি। চিন্তা করতে পারেন, ঐতিহাসিকরা কী বিস্তারিত তার জীবনকে লিপিবদ্ধ করে গেছেন! আল্লাহর রাসূলের কত খুঁটিনাটি বিষয়ের দিকে নজর ছিল তাদের! মদিনায় তিনি ছিলেন গোটা মুসলিম ভূখণ্ডের নেতা। তাঁর স্ত্রী ছিলেন একাধিক। যেকোনো প্রয়োজনে সাহাবিরা ছুটে আসতেন তাঁর কাছে। এত সব দায়িত্ব থাকার পরও তার পাকা চুল ছিল মাত্র ২০টি! এই বিশটি চুল পাকার জন্য পারিবারিক কলহ বা আর্থিক দুশ্চিন্তাকে তিনি দায়ী করেননি। বরং কুরআন মুখস্থ রাখার ভাবনায় এমনটি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। আচ্ছা, পাকা চুল নিয়ে এত কথা কেন? কারণ আছে। শিশু- কিশোরদের কাছে নবিজি কোনো বৃদ্ধ নানা-দাদা ছিলেন না, বরং তাকে মনে হতো একজন সুঠাম মধ্যবয়স্ক। প্রয়োজনে তাকে মন খুলে দুটো কথা বলা যায়। বাচ্চাদের সঙ্গে তিনি হাসতেন, খেলতেন, মজা করতেন। তাই বলে তিনি তাদের চোখে হাসি-তামাশার পাত্রও ছিলেন না। ছেলে-বুড়ো সবাই তাকে সম্মান করতো। শিশু- কিশোররা যেন তাকে বাবার মতো দেখত। এ কারণেই তিনি শিশুদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন অতি আপন।

ধরুন, আপনার পাশের বাসায় মুহাম্মাদ নামে একজন লোক থাকেন। তাকে দেখলে কেমন যেন আপন আপন মনে হয়। হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণবন্ত এক মানুষ। দেখলেই মনটা জুড়িয়ে যায়। তার চেহারায় কোনো পঙ্কিলতার ছাপ নেই। লোকটা সবার প্রতি সদয়। মানুষের প্রয়োজন পূরণে নিবেদিত প্রাণ। এমন মানুষের কথা শুনলে না দেখেই কি তার প্রতি অদৃশ্য এক ভালোলাগা তৈরি হবে না?

তাহলে এমন একজন মানুষের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় যখন কোনো শিশু বেড়ে উঠে, বড়ো হয়ে যুবক বয়সে নিজের কাঁধে জোয়াল তুলে নেয় এবং পরবর্তী প্রজনের কাছে তার গল্প করে, তখন তাদের মাঝে বিশাল উৎসাহ কাজ করে, ভাবতে পারেন? কিশোর বয়সে আনাস বিন মালিক নবিজির খুটফরমাশ খেটেছেন ১০ বছর। নবিজির মৃত্যুর পরও তিনি প্রায় ৮০ বছর বেচে ছিলেন। অন্যান্য অনেক সাহাবির চেয়ে তিনি অনেক বেশি বছর আয়ু পেয়েছিলেন প্রায় ১০৩ বছর। নবিজির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন

নবির মৃত্যুর পর প্রতি রাতেই আমি তাকে স্বপ্নে দেখেছি। যতবার তাঁর মুখখানি মনে পড়েছে, কান্না ধরে রাখতে পারিনি।’

চিন্তা করতে পারেন! এত বছর পর আনাস (রা.) নিজেই অতিবৃদ্ধ অথচ নবিজির স্মৃতি তখনও তার চোখে জ্বলজ্বল করছে, যেন নিজের চোখের সামনে নবিজিকে দেখতে পাচ্ছিলেন তিনি।

নবিজির জীবনীগ্রন্থ পড়ার সময় তার শারীরিক নানা দিক সম্বন্ধে জানি বটে । কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখি, সেগুলোর কি প্রভাব ছিল তাঁর আশেপাশের মানুষগুলোর মাঝে?

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ অনেকেই দেখে থাকবেন, টিভিতে বা ছবিতে। সব সময় সামনে থেকে দেখতে দেখতে কখনো যদি ওটাকে পাশ থেকে বা পেছন থেকে দেখেন, একেবারেই অন্যরকম দেখাবে। হয়তো ভাববেন, এটাই স্মৃতিসৌধ কি না!

নবিজির জীবনকে সাধারণত আমরা একটি দিক থেকে দেখে অভ্যস্ত। একজন নারীর চোখে নবিজি কেমন ছিলেন, তা কি দেখার চেষ্টা করেছি কখনো? কিংবা একজন সদ্য তরুণের চোখে? কিশোর বা শিশুর চোখে? যত ভিন্নভাবে তাকে দেখার চেষ্টা করবেন, তার সম্বন্ধে তত ভিন্ন ভিন্ন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি জেগে উঠবে। ইমাম তিরমিজি, ইমাম বুখারি, ইমাম ইবনে কাসিরের রচিত নবিজির জীবনী বারবার পড়ুন। প্রতিবারই ভিন্ন এক অবয়বে হাজির পাবেন নবিজিকে।

প্রথম দেখায় একজন কিশোর বা শিশুর সামনে তিনি কেমন, তা বললাম। এখন ভাবুন তো, এ রকম একজন মানুষ যদি এসে আপনার হাত দুটি ধরেন, মুখে হাত বুলিয়ে দেন, তারপর আপনাকে কিছু বলেন- বলুন তো তবে কখনোই কি তাঁর কথা ভুলতে পারবেন? একজন মানুষ আপনাকে বকাবকি করেন না, চিৎকার-চেঁচামেচি করেন না, আপনার প্রতি তেড়ে আসেন না, তাকে দেখলে ভয়ে সিঁটিয়ে যান না- এমন মানুষকে আপনি ভালো না বেসে পারবেন? ঠিক এমনই ছিলেন নবিজি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে আপনার কাছে যদি তাকে এমন হাসিখুশি, প্রাণবন্ত মনে হয়, তাহলে একটা বাচ্চার কাছে কেমন লাগবে ভাবুন তো!

নবিজির চুল কেমন ছিলো আসুন জেনে নিন

প্রিয় পাঠক

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *