কিভাবে যুবকেরা হীনমন্যতা লাভ করছে prieo pathak

কিভাবে যুবকেরা হীনমন্যতা লাভ করছে

পজিটিভ থিংকিং

কিভাবে যুবকেরা হীনমন্যতা লাভ করছে

আমি হয়ত নানারকম উদাহরণচিত্র তুলে ধরে বুঝাতে পারি যে, ব্যক্তিগত বিষয়াদির প্রকাশ ঘটিয়ে কিভাবে কত যুবকেরা হীনমন্যতা লাভ করছে। আমার নিজের কথাই বলি, আমি যখন ছোট্ট বালক ছিলাম, আমি ছিলাম খুব হ্যাংলা। ট্র্যাক টিমের দৌড়বিধ সদস্য ছিলাম, পায়ে প্রচুর বলশক্তিও ছিল, আমি যেন ছিলাম একটা শক্ত-মজবুত পেরেকের মত। কিন্তু ঐ হ্যাংলা পাতলা অবস্থাটাকে আমি একদম পছন্দ করতাম না। আমি মোটাসোটা একজন হতে চেয়েছিলাম। আমাকে ঐ ‘হাড্ডিসার বা ‘কঙ্কাল টঙ্কাল’ বলে ডাকা হোত, কিন্তু আমি কখনও চাইনি আমাকে ‘হাড্ডিসার বা ‘কঙ্কাল টঙ্কাল’ বলে ডাকা হোক। আমি চাইতাম, আমাকে মোটকা বলে ডাকা হোক। আমি আন্তরিকভাবে চাইতাম, আমি যেন শক্তিশালী, বলবান মোটাসোটা হই। মোটা হবার জন্য আমি কত কিছুই না খেয়েছি। কডলিভার তেল পান করেছি, কত দুধের শরবত গিলেছি, হাজার হাজার চকলেট আইসক্রীম খেয়েছি। যেসব নাকি নানারকম ক্রীম এবং বাদাম দিয়ে তৈরি ছিল। তাছাড়াও কত কেক, কত মাংসের টিক্কা, অসংখ্য, কিন্তু ওসব বিন্দুমাত্র কাজে আসেনি আমার। আমি ঐ হ্যাংলা পাতলাই রয়ে গেলাম। রাতে সেই দুঃখের কথা ভাবতে ভাবতে বিনিদ্র বসে থাকতাম, মনটা বিষাদে ভরে থাকত। কিন্তু প্রায় ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত আমি মোটাসোটা ও ভারী হবার জন্য অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকলাম, আর প্রায় হঠাৎ করেই আমি মোটা হতে শুরু করলাম! আমি আগাগোড়া ফুলে ফেঁপে উঠলাম। তারপর আমি আবার আত্মসচেতন হয়ে উঠলাম, কারণ আমি অনেক মোটা হয়ে গিয়েছি এবং এখন আমাকে আবার ঐ একই মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে হচ্ছে, কারণ শরীরটাকে একটা মানানসই অবস্থায় আনতে হলে আমাকে মোটামুটি চল্লিশ পাউন্ড ওজন কমাতে হবে, তাতে সাথে সাথে মানসিক যন্ত্রণাও সমভাবে লাঘব হবে। দ্বিতীয়পর্যায়ে আমি বলতে চাই, (কারণ ব্যক্তিগত জীবনের এই প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা হয়ত অন্যদের খুবই সাহায্যে আসবে এটা জেনে যে, কিভাবে মানসিক পীড়া তাদের মধ্যে কাজ করে) আমি ছিলাম এক ধর্মযাজকের ছেলে এবং আমার মনের মধ্যে সবসময় ঐ ব্যাপারটাই গেয়ে বেড়াত। অন্যরা প্রত্যেকেই সবকিছু করতে পারত, কিন্তু আমি সামান্যতম কিছু করলেও দোষটা হত বড় এবং অন্যরা শ্লেষ করে বলত, “আরে, তুমিতো একজন ধর্মযাজকের ছেলে।” তাই একজন ধর্মযাজকের ছেলে হিসেবে পরিচিত হতে মনে বাধত, কারণ এটা সবাই মনে মনে ধরেই নিতো যে, ধর্মযাজকের ছেলে তো স্বভাবতই হবে চমৎকার এবং ভাবপ্রবণ। কিন্তু আমি হতে চাইতাম, একজন শক্ত-মজবুত ব্যক্তি। সম্ভবত: সে কারণেই, প্রচারকদের ছেলেপেলেরা একটুখানি একগুঁয়ে হতে পারলেই খ্যাতি সুখ্যাতি পেয়ে যায়, কারণ তারা সবসময় গীর্জার পতাকাটি বহন করার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। আমি শপথ করেছিলাম যে, একটা কাজ আমি কোনদিন করব না, তা হল, আমি কোনদিন একজন ধর্মপ্রচারক হবো না। যদিও আমি এমন একটি পরিবার থেকে এসেছিলাম, যেখানে বাস্তব ক্ষেত্রে সবাই ছিল একেকজন নির্বাহক, বক্তা, এবং আমিও তেমনি ঐ শেষটাই হতে চেয়েছিলাম। তারা যখন আমাকে জনসমক্ষে বক্তৃতা দেবার জন্য প্রস্তুত করত, তখন আমি ভয়ে মরে যেতাম, আতঙ্কে মন ছেয়ে যেত। সে তো কয়েক বছর আগের কথা, কিন্তু মঞ্চে যাবার সময় ঐ ভীতিকর অবস্থাটা আমাকে মাঝে মাঝেই এসে পীড়া দিত। আমার জানা সবধরনের কৌশলগুলোই আমার আত্মবিশ্বাস বাড়াবার জন্য আমি ব্যবহার করেছি, আর এসব বিধাতাই আমাকে দান করেছিলেন। | ধর্মশাস্ত্রে (বাইবেলে) প্রদত্ত শিক্ষা থেকেই, বিশ্বাসের সহজ সরল কৌশল। প্রয়োগ করে কিভাবে ঐসব সমস্যা সমাধান করা যায়, আমি তার একটা সুন্দর সমাধান পেয়ে গেলাম। এসব মৌলিক নীতিগুলো বৈজ্ঞানিক এবং নিখুঁত এবং এগুলো হীনমন্যতা থেকে উদ্ভূত যে কোন ব্যক্তির যে কোন কষ্ট-বেদনা থেকে তাকে উদ্ধার করার শক্তি রাখে। এসব মৌলিক নীতিগুলোর ব্যবহার যে কোন ভুক্তভোগীকে তার অপ্রাচুর্যতার অনুভূতি যা তাকে মনস্তাত্বিক ভাবে বাধাগ্রস্থ করে রেখেছিল তা থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

এমনিভাবে হীনমন্যতার উৎসগুলো আমাদের ব্যক্তিত্বের উৎকর্ষের পথে শক্তিশালী বাধা স্থাপন করে রাখে। এটা হল, আমাদের শৈশব অবস্থায় কৃত একধরণের আবেগজনিত উৎপীড়ন, অথবা কোন একটি বিশেষ পরিস্থিতির থেকে উদ্ভূত ফল, অথবা এমন হতে পারে যে, কিছুটা আমরা নিজেই করেছি। এই যে মানসিক পীড়া, এটা আমাদের ব্যক্তিত্বের কোন অনুজ্জ্বল এবং অস্পষ্ট অতীতের কোন অবস্থা থেকে দেখা দেয়।

ধরা যাক তোমার বড় ভাই হয়ত একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। স্কুলে সে প্রতিটি বিষয়ে ‘A’ পেয়েছে, আর তুমি পেয়েছ সব বিষয়ে শুধু ‘C’ এবং পরবর্তী সময়ে কি হলো না হলো তুমি আর কিছু শোননি। সুতরাং তুমি এটাই ধরে নিলে যে, জীবনে তোমার দ্বারা আর কিছু হবে না, ও যেমনটা করতে পেরেছে। বড় ভাই পেল ‘A’ আর তুমি পেলে ‘C’ সুতরাং এর কারণ স্বরূপ তোমার মনে বদ্ধমূল ধারণা হলো, সারা জীবনের মত তোমার কপালে শুধু ‘C’ ই লিখা। দৃশ্যতঃ তুমি কখনও বুঝতেই পারলে না যে, এমন বিষয়ও ঘটে যায় এবং ঘটে যাওয়া সম্ভব যে, একজন হয়ত স্কুলে বেশি নম্বর পেয়ে ভালো করতে পারেনি, কিন্তু স্কুলের বাইরে সে চরম সাফল্য লাভ করেছে। ঠিক সেই কারণে কেউ একজন হয়ত কলেজে ‘A’ পেয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিরাট কেউ হতে পারেনি, কারণ যখন সে কোন বিষয়ে ডিপ্লোমা করল, আর ঐ সাথে তার ‘A’ পাওয়াও শেষ হয়ে গেল, আর যে ছাত্রটি স্কুলে বরাবর ‘C’ পেয়েছিল পরবর্তীতে জীবনে প্রতিষ্ঠার সময় সত্যিকার ‘A’ সে পেতে থাকল। আর কর্মজীবনে সাফল্য লাভের মত উত্তম কিছু আছে কি? ছাত্র জীবনে Flop হলেও কর্মজীবনে Top এ পৌছা যাবেনা এমন ধারণা করা ঠিক নয়। কারণ সাফল্যের পথ নানাবিধ।

কিভাবে যুবকেরা হীনমন্যতা লাভ করছে

প্রিয় পাঠক

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *