খুব সহজেই হীনমন্যতার উপর জয়লাভ করুন অনায়াসে হীনমন্যতা কাটিয়ে উঠুন prieopathak

খুব সহজেই হীনমন্যতার উপর জয়লাভ করুন

পজিটিভ থিংকিং

খুব সহজেই হীনমন্যতার উপর জয়লাভ করুন

হীনমন্যতার উপর জয় লাভের জন্য এবং বিশ্বাসকে আরো উন্নীত করার জন্য এ অধ্যায়ের উপসংহারে আমি দশটি বিশেষ সংকেত সম্বলিত একটি তালিকা অন্তর্ভূক্ত করেছি। অধ্যবসায়ের সাথে এই নিয়মাবলীগুলো অনুশীলন করতে থাকুন এবং হীনমন্যতাবোধ আপনার মধ্যে যত গভীরেই প্রোথিত হয়ে থাকুক না কেন ওসব হটিয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হতে আপনাকে তা সাহায্য করবেই।

যা হোক, এ পর্যায়ে আমার একান্ত ইচ্ছা আপনার আত্মবিশ্বাসের অনুভূতিকে গড়ে তোলা, নির্দেশিত সংকেতগুলোর যা আপনার আত্মবিশ্বাসের ভিত পাকাপোক্ত করার জন্য প্রদত্ত হয়েছে সেগুলো যে কত ফলপ্রদ সে ধারণাতে আপনার মনকে কেন্দ্রীভূত করা। যদি আপনার মন নিরাপত্তাহীনতায় এবং অপর্যাপ্ততায় সম্পূর্ণ রূপে আবিষ্ট হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ঘটনা অনুসারে এমন ধারণাগুলো আপনার চিন্তা রাজ্যের উপর দাপটের সাথে আধিপত্য করেছে লম্বা সময় ধরে। অন্যরকম এবং আরও অধিক যথার্থ বা নিশ্চিত ধরনের ধারণা সমূহ আপনাকে দেয়া হবে, এবং তা আত্মবিশ্বাসের ধারণার পূণ: পূণ: নিদের্শাবলীর দ্বারা সম্পাদিত। নিত্যদিনের অস্তিত্বের মাঝে আমাদের যে কর্মব্যস্ততা আছে তার মধ্যে আমাদের চিন্তাশীল মনে সুশৃঙ্খল চিন্তাধারাকে প্রতিষ্ঠা করা একান্ত প্রয়োজন যদি আপনি মনকে পূণ: শিক্ষিত করে তুলতে চান এবং একে আপনি একটি শক্তি উৎপাদনকারী উৎসে পরিণত করতে চান।

অনায়াসে হীনমন্যতা কাটিয়ে উঠুন

আপনার প্রতিদিনের কাজকর্মের মধ্যেও আপনার দৃঢ় বিশ্বাসগুলোকে বাস্তব অবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব। এখানে একজন লোকের কথা আমি বলব, যিনি উপরে উল্লেখিত পথটি অবলম্বন করেছিলেন অনুপম প্রণালীতে। এক বরফ ঢাকা শীতের সকালে মধ্য পশ্চিম শহরের এক হোটেলে উনি আমাকে ডেকে পাঠালেন, উদ্দেশ্য ওখান থেকে তিনি আমাকে পঁয়ত্রিশ মাইল দূরে অন্য একটি শহরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার জন্য নিয়ে যাবেন। তার গাড়ীতে চড়ে আমরা বেশ দ্রুতগতিতে পিচ্ছিল রাস্তা ধরে ছুটলাম। ভাবলাম তার এই দ্রুত ছুটার পেছনে হয়ত কোন কারণ থাকতে পারে, তবুও তকে মনে করিয়ে দিলাম যে, আমাদের হাতে প্রচুর সময় আছে, এত তাড়াহুড়োর বোধ হয় কিছু নেই, কাজেই মনে হয় একটু স্বচ্ছন্দে চলাই ভালো।

জবাবে উনি বললেন, “আমার গাড়ি চালনা আপনাকে দুঃচিন্তার মধ্যে ফেলুক এ কিন্তু আমি চাইনা। যে কোন ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে আমি অভ্যস্ত, আর ওসব অবস্থা থেকে নিরাপদে বের হয়ে আসতে পেরেছি আমি। সব কিছুতেই আমার একটা ভয় ভয় ব্যাপার ছিল। গাড়ি ভ্রমণ, উড়োজাহাজে উড়া এসব কিছুকেই আমি খুব ভয় পেতাম। এমনকি আমার পরিবারের কেউ বাইরে গেলে, সে ঘরে না ফেরা পর্যন্ত আমি দুঃশ্চিন্তায় ভুগতাম। এমন এক ভীতিকর অনুভূতি আমার ভাবনার নিত্য সহচর হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, আমার শুধু মনে হত, এই বুঝি খারাপ কিছু ঘটল এবং এটি আমার জীবনকে এক শোচনীয় অবস্থার শিকার করে তুলেছিল। হীনমন্যতা এবং আত্মপ্রত্যয়ের অভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছিলাম আমি। মনের এ অবস্থাটি আমার ব্যবসা বাণিজ্যের উপরও প্রতিফলিত হয়েছিল, এবং আমি মোটেই ভালো করতে পারছিলাম না। কিন্তু এভাবে তো আর চলতে দেয়া যায় না, তাই অদ্ভুত একটি পরিকল্পনা করে পাল্টা আঘাত হানলাম মনের ঐ নৈরাজ্যকর অবস্থার উপর, আর তাতে কাজও হলো, এতে মনের সমস্ত নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিগুলোকে আঘাত করে হটিয়ে দিতে সক্ষম হলো, ফিরে এলো আমার আত্মবিশ্বাস, যে শক্তিবলে আমি এখন ভালোভাবে বেঁচে আছি, আর এতে আমার জীবনটাই পাল্টে গেল।

আর দেখুন, কি ছিল সেই পরিকল্পনা। সে আমাকে তার গাড়ীর উইন্ডস্ক্রীনের ঠিক নীচে যন্ত্রপাতির প্যানেলে আটকানো দুটো ক্লিপ যা গ্লাভস কম্পার্টমেন্টের পর্যন্ত পৌছেছে, তা দেখিয়ে সেখান থেকে এক প্যাকেট তাস টেনে বের করলেন। এখান থেকে একটা তাস বেছে নিয়ে ক্লিপের নীচে চালান করে দিয়ে বললেন, এর মানে হল, যদি আপনার বিশ্বাস থাকে, তবে আপনার পক্ষে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। তারপর উনি সেটি সরিয়ে ফেললেন, তারপর দক্ষ হাতে তাসগুলো ফিটে নিয়ে এক হাতে অন্য একটি তাস নির্বাচন করলেন। এটির মানে হল: যদি ঈশ্বর আমাদের পক্ষে হয়, তবে কেই বা আমাদের বিপক্ষে কিছু করতে পারে?

তিনি আমাকে একটু ব্যাখ্যা করে বললেন যে, “আমি একজন ভ্রমণশীল বিক্রেতা, সারাদিন গাড়ি চালিয়ে ক্রেতাদের কাছে যেতে হয়। আর এটি আমার আবিষ্কার যে, যখন একজন মানুষ গাড়ি চালায়, সে তখন সব ধরনের চিন্তা ভাবনা করে থাকে। যদি তার চিন্তার ধরণটা নেগেটিভ হয়, তবে সারাদিন সে অনেক নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা করবে, এবং তা অবশ্যই তার জন্য খারাপ কিন্তু ঐ পথেই আমি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। সারাদিন আমি গাড়ি চালাতাম দুটো অবস্থার মধ্যে, তা হল ভয়ের কথা ভেবে এবং হেরে যাবার চিন্তায় ডুবে থেকে এবং প্রসঙ্গত আমার বিক্রি কমে যাবার পিছনে ওটাই একটি বিশেষ কারণ। কিন্তু যেহেতু আমি এই তাসগুলি গাড়ি চালাবার সময় ব্যবহার করছি এবং এতে লিখা বিষয়টি মুখস্থ করেছি, তাই আমি এখন ভিন্নভাবে চিন্তা করতে শিখেছি। আগের যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি যা আমাকে সর্বদা ব্যতিব্যস্ত রাখত, এখন তা প্রায় সবই চলে গেছে, বরঞ্চ হেরে যাবার সে ভীতিকর এবং নিষ্ফলতার ভাবনার পরিবর্তে আমি এখন বিশ্বাস ও সাহসিকতার বিষয় ভাবতে পারছি। সত্যি সত্যি বিস্ময়করভাবে এই পথ এবং পদ্ধতি আমাকে পরিবর্তিত করে ফেলেছে। আমার ব্যবসা বাণিজ্যেও তা সহায়তা করেছে, কারণ যে নাকি একসময় সারাদিন গাড়ি হেকে ক্রেতার কাছে যেতে যেতে ভাবত, হয়ত আজ কিছুই বেচতে পারব না, সেই আজ ভাবতে পারছে, আজ অবশ্যই আমার ভালোই বিক্রি হবে।আমার এক বিজ্ঞ বন্ধু এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করত। তার মনকে সে উপস্থিতভাবে নিশ্চয়তার অনুভূতিতে ভরে ফেলত, বিধাতার সাহায্য সহযোগিতার নিশ্চয়তায় ভরিয়ে তুলত মনকে, আর আসলে সে এভাবেই তার পুরো চিন্তা পদ্ধতিকেই পাল্টে ফেলেছিল।

ঠিক এপথেই যে দীর্ঘসময়ব্যাপী নিরাপত্তাহীনতার দুঃশ্চিন্তা তাকে চেপে থাকত এবং তার উপর আধিপত্য বিস্তার করত তা সে একটি সুন্দর সমাপ্তির পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল, তার সম্ভাবনাময় শক্তি শেষ পর্যন্ত মুক্ত হয়েছিল।নিরাপত্তা বা নিরাপত্তাহীনতার যে অনুভূতি তা কিন্তু আমরাই আমাদের মধ্যে তৈরি করি। ব্যাপারটা হল যে, কিভাবে আমরা ভাবছি। আমাদের চিন্তা ভাবনার মধ্যে যদি অবিরত ভয়ানক বিষয়ের অশুভ প্রত্যাশার বিষয়টি একেবারে গেঁথে যায় তবে তা বাস্তবে ঘটতে পারে এবং এর ফলশ্রুতি হিসেবে আমাদের অনুভূতিও বিরামহীনভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকবে এবং যা নাকি অধিক গুরুতর তা হলো চিন্তা শক্তির সাহায্যে কোন কিছু সৃষ্টি করার প্রবণতা, এই অবস্থাটিকে আমরা ভয়ও পাই। এই বিক্রেতা লোকটি আসলে সাহসিকতার মূল চিন্তা এবং আত্মবিশ্বাসের দ্বারা নিশ্চিত ফল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল, ঐ তাসগুলি গাড়িতে তার সামনে রাখার পদ্ধতিকে অনুসরণ করে। পরাভূত মনস্তত্ব অদ্ভুতভাবে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে তাকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করেছে। যা এখন তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে প্রবহমান এবং তার সৃষ্টিশীল মনোভাবকে উৎসাহিত করেছে।

খুব সহজেই হীনমন্যতার উপর জয়লাভ করুন

প্রিয় পাঠক

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *