নিজের উপর আস্থা রাখুন prieopathak (প্রিয় পাঠক)

নিজের উপর আস্থা রাখুন ও আস্থাবান হোন

পজিটিভ থিংকিং

নিজের উপর আস্থা রাখুন ও আস্থাবান হোন

নিজের উপর আস্থা রাখুন… জিবন পাল্টে যাবে। নিজের উপর আস্থা রাখুন, নিজের সামর্থের উপর আস্থাবান হোন। বিনীত আচরণ মানব চরিত্রের এক দামি অলংকার। একান্ত আপনার যে শক্তি তার উপর আত্মবিশ্বাস না থাকলে কোনভাবেই সাফল্য লাভ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এটা পরিক্ষিত সত্য যে, দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের উপর ভর করেই কেবল আপনি সাফল্য পেতে পারেন। হীনতাবোধে এবং প্রাচুর্যতা এসব আপনার বিশ্বাস লাভের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু সর্বদা মনে রাখতে হবে যে, আত্মবিশ্বাস ও আত্ম উপলব্ধি এসব আভ্যন্তরিক শক্তিগুলো ব্যক্তি জীবনে পূর্ণাঙ্গ সাফল্য লাভের মূল চাবিকাঠি। মনোবৃত্তির এই যে গুরুত্বপূর্ণ দিক এ দিকটির জন্যই, এ পোষ্টটি নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হতে এবং আপনার মধ্যেকার নিহিত শক্তিকে চিনতে ও বুঝতে সাহায্য করবে। চরম মানসিক পীড়া যাকে বলা যেতে পারে হীনমন্যতাবোধ; তা যে কত শত মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে, করেছে নিঃস্ব ও শোচনীয় অবস্থার শিকার। সেসব দুঃখী মানুষের সংখ্যা নিরুপন করতে গেলে সত্যিই এক ভীতিকর অবস্থা এসে যেন সমস্ত বোধ শক্তিকে চেপে ধরে। একটি মানুষ জীবনে ব্যর্থ হওয়া মানে জীবন্ত সমাহিত হওয়া। কিন্তু আপনার এমন কষ্ট ভোগ করার প্রয়োজন নেই। শুধু সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে এমন অবাঞ্ছিত অবস্থা থেকে উতরে যাওয়া সম্ভব। তার জন্য আপনাকে যা করতে হবে, তা হলো নিজের মধ্যে গঠনমূলক বিশ্বাসের ভিতকে মজবুত করে তোলা। এ হলো সেই বিশ্বাস যা বয়ে আনে সর্বজনীন মঙ্গল, যা পরীক্ষিত ও সমর্থিত এক সত্য। একবার শহরের এক ব্যবসায়ী সম্মলনে কথা বলার পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন অভ্যাগতদের অভিবাদন গ্রহণ করছি, এমন সময় একজন লোক এসে অদ্ভূত গভীর আন্তরিকতায় আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার সাথে কি আমি একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারি, বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যা জানার জন্য আমি মরিয়া হয়ে উঠেছি।” আমি তাকে বললাম, অন্যরা চলে গেলে আমি আপনার সাথে কথা বলব, ততক্ষণ অনুগ্রহপূর্বক অপেক্ষা করুন। শেষে আমরা আবার মঞ্চে ফিরে এসে বসলাম। তারপর লোকটি বলতে শুরু করলেন, “আমি এ শহরে আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবসা পরিচালনা করছি, এতে যদি আমি সাফল্য পাই তবে তার অর্থ হল, সবকিছুই আমার মনের মত হল, আর যদি ব্যর্থ হই তবে আমার সবই গেল। আমি তাকে কিছু সময়ের জন্য একটু হালকা মনে থাকতে পরামর্শ দিলাম বললাম, কোন কিছুই সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্ত নয়। যদি আপনি সফল হন তবে তা হবে চমৎকার কিন্তু যদি ব্যর্থ হন, ভাবনা কি, আগামীকালটি তো আপনার জন্য আছেই। কিন্তু বিষণ্ণভাবে তিনি বললেন, এক ভয়ানক বিশ্বাসহীনতা আমার মধ্যে সবসময় কাজ করে। আমার কোন আত্মবিশ্বাস নেই। আমি আসলে এটা বিশ্বাসই করতে পারি না যে, আমি এ অবস্থাকে অতিক্রম করতে পারি। আমি বুঝতে পারি যে আমার কোন সাহস নেই, আমি একেবারে হতাশ। আসলে লোকটি বিলাপ করছিলেন যে আমি প্রায় ডুবে গিয়েছি, এখন আমার বয়স চল্লিশ। কেন আমি সারাটি জীবন হীনমন্যতা বোধে, আত্মবিশ্বাসের অভাবে এবং আত্মসন্দেহে তিলে তিলে এত কষ্ট পেলাম! আজ রাতে আমি আপনার বক্তব্য শুনলাম, আপনি The power of positive thinking সম্বন্ধে বললেন, তাই এখন আমি আপনার কাছে জানতে চাই কিভাবে আমি নিজের মধ্যে সেই আরাধ্য বিশ্বাসকে খুঁজে পাবো।

উত্তরে তাকে আমি বললাম, যে এর জন্য দুটো পদক্ষেপ আপনাকে গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত: আপনাকে খুঁজে বার করতে হবে যে, কেন ঐসব শক্তিগুলোর কোন অনুভূতি আপনার মধ্যে নেই? যদিও তারজন্য বিশ্লেষণ দরকার, আর তাতে সময়ও লাগবে বেশ। অবশ্যই একজন চিকিৎসকের মত আমাদের তন্ন তন্ন করে পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে, আমাদের আবেগঘন জীবনের কোন শারীরিক বা মানসিক পীড়া শারীরিকভাবে কোন ক্ষতির কারণ হয়েছে কিনা? এটা যে তড়িঘড়ি করে হয়ে যাবে তা নয়, আজকের রাতের এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতেই এর একটি নিশ্চিত সমাধান পেয়ে যাব তা তো নয়ই, এবং একটি স্থায়ী সমাধানে পৌছাতে হলে একটি যথাযথ চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু এই উৎকট সমস্যা থেকে আপনাকে টেনে বের করার জন্য একটি সূত্র আমি আপনাকে দেব, যদি আপনি তা প্রয়োগ করেন তবে তা যে কাজে লাগবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

আজ রাতে আপনি যখন হাঁটাহাঁটি করবেন, তখন কিছু কথা বার বার বলার জন্য আমি আপনাকে পরামর্শ দেব। এমনকি ঘুমাতে যাবার পরও আপনি তা আরও বেশ কয়েকবার বলবেন। আবার কাল যখন আপনি ঘুম থেকে জেগে উঠবেন, বিছানা ছাড়ার আগে আপনি ঐ কথাগুলো আরও তিনবার বলবেন। আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাবার পথে ঠিক ঐ কথাগুলোকে আবারও তিনবার বলে যাবেন। আর এটা আপনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত মনোভাব নিয়ে করবেন এবং তাতে আপনি আপনার সমস্যা সমাধানের যথেষ্ট শক্তি ও সামর্থ খুঁজে পাবেন। পরে যদি আপনি ইচ্ছে করেন, তাহলে আমরা মূল সমস্যা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণে বসতে পারব, কিন্তু ঐ বিষয়টি অনুসরণ করে আমরা যে পর্যন্ত এসেছি, এখন আমি যে নিয়ম বা সূত্রটি আপনাকে দিতে যাচ্ছি, চুড়ান্তভাবে নিরাময় হতে তা হতে পারে এক বিরাট ব্যাপার। নীচে আমার প্রদত্ত যে সত্যাপন (সত্যবাণী) লোকটিকে দেয়া হয়েছে তা উদ্ধৃত করা হল- “বিধাতার ইচ্ছার মধ্য দিয়ে আমি সবকিছু করতে পারি, এই সত্যানুভূতি আমাকে শক্তিশালী করেছে।”

এ কথাগুলি তার কাছে অপিরচিত ছিল, সেজন্য আমি ঐ কথাগুলো একটি কার্ডে লিখে দিলাম এবং তাকে তা জোরে জোরে তিনবার পড়তে বললাম।

“এখন এ ব্যবস্থাপত্রটি অনুসরণ করুণ, আমি নিশ্চিত যে, আপনার সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। লোকটি সোজা হয়ে কয়েক মূহুর্ত শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে তারপর স্বাভাবিক অনুভূতির সাথে বললেন, “ঠিক আছে ডাক্তার সাহেব, ঠিক আছে।” আমি তার চৌকো কাঁধ এবং রাতের ঐ হেঁটে বের হয়ে যাওয়াটা তীক্ষ্ণভাবে লক্ষ্য করলাম। তার অবয়ব দেখে মনে হলো, উনি একজন মর্মাহত লোক এবং এখনও সে পথে উনি নিজেকে হাটিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আর যখন উনি দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলেন তখন তাকে দেখে মনে হলো, বিশ্বাস তার মনের মধ্যে কাজ করতে শুরু করছিল। পরবর্তীতে এসে উনি আমাকে বলেছেন যে, এই সাধারণ সূত্রটি ইতিমধ্যে তার জন্য বিস্ময়কর কিছু করেছে, তিনি আরও বললেন, “যে এটি মনে হয় অবিশ্বাস্য, অল্প কয়েকটি কথা (শাস্ত্রবাণী) একজন মানুষের জীবনে এত কিছু করতে পারে!”

যেসব কারণে হীনমনোবৃত্তি তাকে গ্রাস করেছিল, তা নিয়ে উনি পরবর্তীতে বেশ পড়াশুনা করেছেন। তাতে এসব প্রতিবন্ধকতা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, আর এর পেছনে কাজ করেছিল বৈজ্ঞানিক পরামর্শ এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সঠিক প্রয়োগ। তাকে , শেখানো হয়েছিল কিভাবে বিশ্বাস ধারণ করতে হয়, অনুসরণ করতে তাকে দেয়া হয়েছিল সুস্পষ্ট শিক্ষা। (এই পোষ্টের শেষ দিকে তা প্রদত্ত হয়েছে)। ক্রমে ক্রমে তিনি একটি মজবুত, অখন্ড ও যুক্তিসঙ্গত আত্মবিশ্বাস লাভ করেছেন। যেসব ছিল তার পদে পদে বাধা তা এখন তার থেকে দূরে থাকছে, আর সেই বিস্ময়ের কথা তিনি এখন আত্মতৃপ্তিতে অবিরাম বলে যাচ্ছেন। তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে এখন এসেছে এক যথার্থ প্রত্যয়, হবে না এমন বিষয়টি তার থেকে উঠে গেছে। কপুরের মত আমি আর সাফল্য পাব না, এমন হতাশাকে উনি এখন মন থেকে তাড়িয়ে দিতে পারছেন, পক্ষান্তরে সাফল্য পাবই এমন একটি নিশ্চয়তাকে উনি এখন বুকে আগলে থাকতে পারছেন। তার নিজস্ব শক্তি-সামর্থ্যের মধ্যে খাটি আত্মবিশ্বাসকে তিনি ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

নিজের উপর আস্থা রাখুন ও আস্থাবান হোন

প্রিয় পাঠক

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *