বিষন্নতা থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি দুর্দান্ত উপায় prieo pathak depression motivation inspear

বিষন্নতা থেকে মুক্তি পাওয়ার এক দুর্দান্ত উপায়

পজিটিভ থিংকিং

বিষন্নতা থেকে মুক্তি পাওয়ার এক দুর্দান্ত উপায়

এই হীনমন্যতাবোধকে মন থেকে সরিয়ে দেবার জন্য দারুণ এক উপায় আছে তাহলো সম্পূর্ণ অন্যরকম একটি গভীর নীবিড় আত্ম সন্দেহের ব্যাপার, যা মনকে গ্রাস করে আছে, তাকে বিশ্বাসের প্রাচুর্যে ভরে ফেলতে হবে। মনের ঠিক এমন এক পর্যায়ে, বিধাতার উপর প্রচণ্ড বিশ্বাসকে বাড়িয়ে তুলতে হবে, যা আপনার মধ্যে একটি বিনীত ভাব এনে দিবে, সাথে সাথে আপনার মধ্যে উত্তমরূপে এনে দেবে প্রকৃত বিশ্বাস।

সক্রিয় বিশ্বাস অর্জনের জন্য যা করতে হবে, তা হলো প্রার্থনা, অনেক প্রার্থনা, ধর্মশাস্ত্র পড়ে এবং এর মধ্যে একেবারে ডুবে গিয়ে প্রার্থনা করার ঐ সন্দেহাতীত ভাবটাকে মনে ধরে রেখে এর অনুশীলন করতে হবে। অন্য একটি পোস্টে আমি সুনির্দিষ্টভাবে প্রার্থনা করার সূত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি কিন্তু আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই যে, বিশেষ গুণযুক্ত বিশ্বাস উৎপাদন করার জন্য বিশেষ প্রকৃতির হীনমন্যতাবোধকে মন থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। ভাসা ভাসা ভাবে বা নিয়ম মাফিক বা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রার্থনা করা মোটেও শক্তিপূর্ণ নয়, বরং তা নিয়ে আসে নিস্ফল পরিণতি।

টেক্সাসে আমার এক বন্ধুর বাড়িতে এক সুদর্শনা বাবুর্চি ছিল। আমি জানতাম তার কিছু কষ্টদায়ক সমস্যা ছিল। কিন্তু এগুলোকে সে একসময় জয় করতে পেরেছিল। একদিন কৌতুহল বশত: জিজ্ঞেস করলাম যে, তোমার ঐ কষ্টকর সমস্যাগুলোকে তুমি কিভাবে কাটিয়ে উঠলে? সে বেশ আত্মপ্রত্যয়ী ভাবে বলল, আসলে সাধারণ সমস্যাগুলোকে সাধারণভাবে প্রার্থনার দ্বারা মোকাবিলা করা যায়, কিন্তু যখন কোন বড় সমস্যা কাউকে নাস্তানাবুদ করে তখন তা মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন গভীর প্রার্থনা।

আর একজন প্রেরণাদায়ী বন্ধু ছিল আমার, দারুণ এক ব্যবসায়ী এবং আমার জানা মতে উনি ছিলেন একজন দক্ষ যোগ্য আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। পরে যিনি নিউইয়র্কের Harlowc B Andrews of Syracuse হন। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, মানুষের জীবনে যেমন কষ্টই আসুক, যদি তা প্রার্থনার দ্বারা মোকাবিলা করা যায় তবে তা আর তত বড় ও কষ্টকর মনে হয় না। উনি আরো বললেন, যেখানেই তুমি যেতে চাও, বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে যাও এবং বিশ্বাস ও গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থনা করতে শেখো। তোমার প্রার্থনার ধরণ ও গুরুত্ব বুঝেই বিধাতা তোমার মূল্য নির্ধারণ করবেন। তার কথা কতটা সত্যি ছিল তা বুঝা যায় ধর্মগ্রন্থের লেখা থেকে : (মথি lx29) যে, তোমার বিশ্বাস অনুসারেই তোমার প্রতি তা ফলপ্রসু হোক। কাজেই তোমার সমস্যা যত বৃহত্তর তোমার প্রার্থনাও তত বৃহত্তর হওয়া উচিৎ।

রোল্যান্ড হেইজ নামের এক গায়ক আমাকে জানিয়েছিলেন যে, তার দাদু, যার শিক্ষাগত যোগ্যতা তার নাতির সমকক্ষ ছিল না, কিন্তু তার নিজস্ব জ্ঞানের বহর ছিল সুস্পষ্টভাবেই নাতির থেকে অনেক গভীর। তিনি বললেন : অনেক প্রার্থনা করতে হয়ত অনেক কষ্ট হয়, কিন্তু তা তোমাকে শোষণ করে শেষ করে দিতে পারে না। তোমার যত সন্দেহ, ভয় ও হীনতাবোধ আছে, তোমার প্রার্থনাগুলোকে ওসবের আরও অনেক গভীরে পরিচালিত করতে হবে। গভীর প্রার্থনা কর, দীর্ঘ প্রার্থনার শোষণ ক্ষমতা অনেক, যা তোমার মনের অন্তরায় বিষয়গুলো শোষণ করে শক্তিপূর্ণ ও মূল বিশ্বাসের নাগাল পেতে সাহায্য করবে।

একজন যোগ্য আধ্যাত্মিক গুরুর কাছে গিয়ে শিখুন যে, কিভাবে বিশ্বাস ধারণ করতে হয়। বিশ্বাসকে আয়ত্ত্বে আনা এবং এর যথার্থ ব্যবহার এবং এর থেকে উৎপন্ন শক্তি লাভ, এসবই হলো আপনার দক্ষতা লাভের নামান্তর, এবং অন্য যে কোন দক্ষতার মত একে নিয়ে পড়াশুনা করতে হবে এবং পূর্ণজ্ঞান লাভের জন্য চর্চা চালিয়ে যেতে হবে।

বিষন্নতা থেকে মুক্তি পাওয়ার এক দুর্দান্ত উপায়

প্রিয় পাঠক

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *