জীবনের গল্পের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ Prieopathak prio

জীবনের গল্পের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

বিষণ্ণতা

জীবনের গল্পের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

সাইক্রিয়াটিস্ট হিসেবে রোগ নির্ণয়ের আমাদের প্রাথমিক কাজ হলো, সামনের মানুষটির কথা গুলোকে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা। গল্পের আকারে সুখ-দুঃখের যে কথাগুলো একজন মানুষের মুখ থেকে বের হয় তার মধ্যেই প্রকৃতপক্ষে লুকিয়ে থাকে তার সমস্যার কারণ, আবার কখনো কখনো তার সমাধানও। শুধু বুলিং নয় প্রত্যেক ব্যক্তির বাচনভঙ্গি অভিব্যক্তি এবং প্রতিক্রিয়া অধিকাংশ সময়ই প্রকাশ করে তার ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্য এবং অনুভূতি।

একজন মানুষ হঠাৎ করেই বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়ে যায় না। তাদের জীবনকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কখনো কখনো এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কয়েক বছরের হতাশা, কখনো-বা এর বীজ তার মনে বপন করা হয়েছিল শৈশবেই। এই বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে আমরা বিষন্নতার কারণ গুলোকে তিনটি মূল ভাগে আলোচনায় আনতে পারি,,,

১. Predisposing Factors:

অতীতের যে ঘটনাগুলো একজন ব্যক্তির বর্তমান বিষন্নতার ভিত্তি তৈরি করে সে গুলোকে বলা হয় Predisposing factors। অবশ্যই উল্লেখ্য যে Predisposing factors থাকলেই সবার বিষন্নতা হবে ব্যাপারটা এমন নয়। শুধুমাত্র বিষন্নতা হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

যে বিষয়গুলো অতীতে ঘটে থাকলে, বিষন্নতার জন্য সেই ব্যক্তি বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ-

ক) বাবা-মায়ের বিষন্নতা থাকলে।

খ) 13 বছরের আগে বাবা বা মায়ের মৃত্যু ঘটলে  বিশেষত মায়ের মৃত্যুর পর মেয়েদের বিষন্নতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

গ) সিঙ্গেল মা হলে।

ঘ) শারীরিক রোগ থাকলে।

ঙ) অতীতে বিষন্নতার ইতিহাস থাকলে।

২. Precipitating factors:

অতীতের ভিত্তির উপর বর্তমানের যে কষ্টকর ঘটনাগুলো একজন ব্যক্তির বিষণ্ণতার সৃষ্টি করে সেগুলোকে বলা হয় Precipitating factors।

এখানে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ্য।

প্রথমত; একি Precipitating factors সবার ক্ষেত্রে বিষন্নতার সৃষ্টি করে না

দ্বিতীয়তম যদি Precipitating factors এবং Predisposing factors একই বা কাছাকছি হয়, তাহলে বিষণ্ণতার সম্ভাবনা বেশি। যেমন: সালেহার ক্ষেত্রে বাবা মায়ের মৃত্যু স্বামীর মৃত্যু কাছের কাউকে হারানোর অনুভূতি তার কষ্ট আরো বেড়ে গিয়েছে।

৩) Perpetuating factors:

যে বিষয়গুলোর জন্য একজন ব্যক্তির বিষন্নতা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায় সে গুলোকে বলা হয় Perpetuating factors বা Maintaining factors বলা হয়ে থাকে।

মিসেস সালেহার জীবনের গল্পকে যদি আমরা এই তিনটি বিষয়ে ভাগ করে দেখার চেষ্টা করি এখন বিষণ্ণতার সমাধান করতে হলে তাই কখনোই শুধু Precipitating factors বা বর্তমান সমস্যা সমাধান করলেই হবে না, যদি আমরা তার Perpetuating বা Maintaining factors এর উপর কাজ না করি। অর্থাৎ সেগুলোকে জীবন থেকে না সরাতে পারি, তাহলে বিষন্নতা আবার ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক। আবার একজন ব্যক্তি যদি তার অতীতের যন্ত্রণাদায়ক ঘটনাগুলোর কারনে নিজেকে দোষারোপ করতে থাকেন তবে তার জন্য বিষণ্নতা থেকে বের হয়ে আসা কষ্টকর হবে।

জীবনের গল্পের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

প্রিয় পাঠক

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *