বিষণ্ণতা কেন হয় জেনে নিন কারণগুলো prieopathak (প্রিয় পাঠক)

বিষণ্ণতা কেন হয় কারণগুলো জেনে নিন

বিষণ্ণতা

বিষণ্ণতা কেন হয় কারণগুলো জেনে নিন

বিষণ্ণতার কারন খুঁজতে গেলে, সবার জন্য নির্দিষ্ট একটি কারনকে আলাদা করা অসম্ভব। বিভিন্ন কারণের মধ্যে মূল কারনগুলো হলো-

১) বায়োলজিক্যাল বা জেনেটিক কারণ:

বলা হয়ে থাকে ক্রোমোজোম নাম্বার ২,১২,১৫,১৭ বিষণ্ণতার জন্য অনেকাংশে দায়ী । এ কারনেই পরিবারে যে কারো বিষণ্ণতা থাকলে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

** আপনার বাবা-মা কারো বিষণ্ণতা থাকলে আপনার বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৩৭%

** প্রথম ডিগ্রি আত্নীয়-স্বজনদের কারো বিষণ্ণতা থাকলে আপনার হওয়ার সম্ভাবনা ২০-৩০% বেশি !

** যারা আইডেন্টিকাল যমজ অথ্যাৎ দেখতে একইরকম এমন জমজ ভাই – বোনদের মধ্যে একজনের বিষণ্ণতা হলে অপরজনের হওয়ার সম্ভাবনা ৫০-৭০%

** বায়োলজিক্যালি শরীরের বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটার, বিশেষ করে সেরোটোনিন নর-অ্যাড্রেনালিন কমে গেলে বিষণ্ণতা দেখা দেয়।

সবকিছুর পরেও মূল কথা হলো, যদি বংশে কারো বিষণ্ণতা থাকে আপনার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কিন্তু হবেই তা বলা যায় না। একই জিন থাকার পরেও প্রত্যেকটি মানুষের আলাদাভাবে বেড়ে ওঠা, জীবনের ঘটনাগুলোকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনের ঘটনাবলি- এই ৩টি বিষয় বিষণ্ণতার জন্য জরুরি।

২) সাইকোলজিক্যাল বা মানসিক কারণ:

জীবনের যেকোনো সময়, যেকোনো মানুষের বিষণ্ণতা হতে পারে, তবুও আমাদের জীবনের ঘটনাবলি অনেক সময় বিষণ্ণতার জন্য দায়ী হয়ে থাকে।

ভালনারেবিলিটি ফ্যাক্টর হলো, এমন সব ঘটনাবলী যা আমাদের অতীত জীবনে ঘটেছে, কিন্তু এখনো আমাদেরকে নাজুক করে রেখেছে । যেমন: অতীতে কারো প্যারেন্টিং ভালো ছিল না, বাবা-মা সবসময় তুলনা করত, কথায় কথায় অপমান করত অথবা ছোটবেলায় একজন বাবা মাকে হারিয়েছে কিংবা যৌননিপীড়নের শিকার হয়েছে । এর সঙ্গে যে জিনিসটি যোগ হলে বিষন্নতা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে তা হল ট্রিগারিং ফ্যাক্টর। ট্রিগারিং ফ্যাক্টর  হল সেইসব উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী ঘটনা যেসব ওই নাজুক অবস্থার মধ্যে অনেকটা আগ্নেয়গিরির মত কাজ করে। যেমন: যে আগে থেকেই তুলনার মধ্যে বড় হয়েছে সে যখন বুড়ো হয়ে বোলিংয়ের শিকার হবে বা কর্মক্ষেত্রে গিয়ে যখন তাকে তুলনা করা হবে তখন সেটা গ্রহণ করা তার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। আবার যে ব্যক্তি ছোটবেলাতেই  তার বাবা মাকে হারিয়েছে, সে যখন বড় হয়ে স্বামী বা স্ত্রীকে একইভাবে হারায়। তখন সেটি তার ক্ষেত্রে হয়ে দাঁড়ায় বিষণ্ণতার একটি বড় কারন। এভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ভালনারেবিলিটি  এবং ট্রিগারিং ফ্যাক্টরগুলো একত্রিত হয়ে বিষণ্ণতা সৃষ্টি করে থাকে।

৩) ব্যক্তিত্ব জনিত কারণ:

আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব আলাদা। তাই প্রত্যেকের দেখার চোখও ভিন্ন। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নির্দিষ্ট একটি ধর্মে বিশ্বাস করেন, তাদের মধ্যে আবার একইভাবে সামাজিক প্রভাবে আমাদের ব্যক্তিত্বের ও বিশ্বাসের পরিবর্তন হয়। যেমন: আমাদের দেশে শেখানো হয় বিষন্নতা বলতে কিছু নেই এবং বিষন্নতা হলে কাউকে কিছু না বলে আর সহ্য করাই শক্তির পরিচয়। এ কারণেই অনেক সময় দেখা যায় পুরুষেরা এসব বিষয়ে মন খুলে কথা বলতে চান না। ফলে চিকিৎসাপদ্ধতি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং বিষন্নতার তীব্রতা বাড়ে, আত্মহত্যা প্রবণতা বাকিদের তুলনায় অনেকাংশে কম। এর মূল কারণ হিসেবে তারা বলেন, ধর্মবিশ্বাসী লোকেরা অধিকাংশ সময় মৃত্যুপরবর্তী জগতে বিশ্বাস করেন এবং তাদের পৃথিবিকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক।

বিষণ্ণতা কেন হয় কারণগুলো জেনে নিন

প্রিয় পাঠক

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *