সাফল্য লাভ করতে হলে এটি অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে prieopathak (প্রিয় পাঠক) Motivational speech and stories

সাফল্য লাভ করতে কি ত্যাগ করতে হবে

সাফল্যের পথে

সাফল্য লাভ করতে কি ত্যাগ করতে হবে

সাফল্য লাভ করতে হলে ভয় ত্যাগ করতে হবে। ভয় সাফল্যের বিরাট শত্রু। ভয় মানুষের সুযোগের সদ্ব্যবহারে বাধা দেয়। জীবনের স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়, ভয় মানুষকে দুর্বল করে তুলে, শরীরকে অচল করে দেয়- শারীরিক শক্তিকে ক্ষয়িত করে। এই ভয় আসে মানুষের অস্থিরতা আর বিশ্বাসের অভাবহেতু। এমন একটি বস্তু যে কোনো দিক থেকেই হোক- মানুষ যা পেতে চায় তা লাভ করতে দেয় না। ভয় মানুষকে মাথা তুলতে দেয় না। কবির ভাষায়

“করিতে পারি না কাজ সদা ভয় সদা লাজ’’

সংশয়ে সংকল্প সদা টলে পাছে লোক কিছু বলে।” অজস্র রকমের ভয় আছে। শিশুদের পড়া না হলে মার খাওয়ার ভয়, অন্যায় করলে শাস্তির ভয়, রাত্রে ভূতের ভয়, মেয়েদের রাত-বিরাতে রাস্তায় বেরুতে ভয়, চাকরি করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের শাসনের ভয়, অসুখ-বিসুখের ভয়, চোর-ডাকাতের ভয়, পাপের ভয়, মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা অজানা ভয়।

বৃদ্ধবয়সে পুত্রদের উৎপীড়ন থেকে ভয় ইত্যাদি অজস্র ভয় মানুষকে তলে তিলে গ্রাস করছে। তার মধ্যে ৫টি ভয় বেশ প্রবল। এই পাঁচটি ভয়কে দূর করতে না পারলে জীবনে সাফল্য লাভ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ভয়ের শ্রেণি বিভাগ

(ক) দারিদ্রের ভয়।

(খ) সমালোচনার ভয়।

(গ) ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হবার ভয়।

(ঘ) বার্ধক্যের ভয়।

(ঙ) মৃত্যুর ভয়।

১. দারিদ্রের ভয়- ব্যবসা-বাণিজ্যে নামতে চাচ্ছেন না, কারণ যদি লস (ক্ষতি) হয় তাহলে তো মহাবিপদে পড়তে হবে। ধার করে টাকা নিয়ে দোকান বা কোনো বড় বিজনেস চালিয়ে যদি লাভ না হয়, তাহলে তো ভিখিরি হয়ে যেতে হবে, হয়তো এসব চিন্তা করছেন। এভাবে ভয় করলে জীবনে কোনোদিন সাফল্য আসবে না। বুঝতে হবে নো রিস্ক নো গেইন। কোনো কিছুতে ঝুঁকি না নিলে লাভের আশা নেই।

২. সমালোচনার ভয়- কিছু কাজ করলেই তো তার সমালোচনা হবে। বিশেষ করে বড় কিছুর দায়িত্ব নিলে, বড় ব্যবসা-বাণিজ্য করলে, নেতা হতে গেলে, দেশের কাজ করতে গেলে সমালোচনা শুনতেই হবে। সেই সমালোচনাকে ভয় করলে কোনোভাবেই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন না। সমালোচনা সর্বকালে সর্বযুগে রয়েছে। আপনি ভালো-মন্দ যে কাজই করুন।

কেন, লোকে আপনাকে প্রথমত বিদ্রুপ করবে, তারপর বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে চেষ্টা করবে। পরিশেষে তারাই আবার প্রশংসা করবে। সমালোচনার চাপে পড়ে ঘাবড়ে গেলে আপনি সফল হতে পারবেন না। তাহ কাজ করুন। কে কোথায় কি বলল, তাতে কান দেবেন না। হাতি পথ দিয়ে চলে যায়। তার পেছনে কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করে। তাতে হাতির কি কিছু যায় আসে? কিছুই যায় আসে না। এতে তারা আনন্দ পায়। তেমনি আপনি বড় হলে বলবান হলে পাশাপাশি সবাই আপনার সম্পর্কে কুসমালোচনা করে আনন্দলাভ করে।

৩। ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়- মা তার ছেলের বিয়ে দিয়ে ভাবছেন, ছেলে আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। আমাকে আর ভালোবাসছে না। সব সময় বউয়ের কথায় উঠ-বস করছে। সংসারে অহেতুক গণ্ডগোলের সূচনা হলো। কেউ মিলেমিশে থেকে সংসারকে সাফল্যমণ্ডিত করতে পারল না। বাবা ভাবছেন, ছেলের বিয়ে দিলে কিংবা ছেলেকে বিষয় সম্পত্তি উইল করে দিলে পরে যদি না দেখে! তখনতো বিপদ হবে। তাই বলছি, এইসব আজেবাজে ভয়ে মনকে দমিয়ে রাখবেন না। তাতে সাফল্য আসবে না।

৪। বার্ধক্যের ভয়- যদি ভাবেন, মানুষ আজ আছে কাল নেই কিংবা বয়স পঞ্চাশ তো পার হয়ে গেল। আর বড় কিছু কারবার বা দোকান করে লাভ কী! দুদিন পরেই তো বার্ধক্য আসবে।

আপনার এই চিন্তা ভুল। বার্ধক্যে এলেও কোনোদিন ভাববেন না যে আপনার বয়স হয়েছে। নিজেকে পঁচিশ বছরের মতো চাঙা রাখার চেষ্টা করুন। মাপঝোপ করে খাওয়া দাওয়া করুন- যৌবন ঠিক থাকবে। আর যে কোনো বয়স থেকেই বড় কিছু কাজ করতে শুরু করুন। আসলে সাফল্যের কোনো বয়স নেই।

৫। মৃত্যুর ভয়- সেনাবাহিনীতে কাজে আপনার ডাক এসেছে। আপনি যদি মৃত্যুভয়ে ঐ চাকরিতে সাড়া না দেন তাহলে সাফল্য আসবে কেমন করে? ইলেকট্রিক কাজে- পাকা বাড়ি নির্মাণ ও রঙ করার কাজে মৃত্যুভয় তো সর্বদা থাকবে। তবে কি সেইসব কাজ করবেন না। সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে কারা? এরোপ্লেন চড়ছে কারা? গাড়ি চড়তে গেলেও তো মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় করে নিয়ে যেতে হয়। মৃত্যু যখন-তখন হতে পারে। বাড়িতে বসে থাকাকালীনও মৃত্যু হতে পারে। তাই মৃত্যুভয় ত্যাগ করুন। সফলতা আসবে।

ভয়কে দূর করার জন্য ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করুন, যেসব মানুষকে আপনার আত্মবিশ্বাসে ভরপুর দেখেন- যারা এই বিশ্বাসকে আয়ত্ব করেন, তারা দুশ্চিন্তা ভুলে ধৈর্য মনোবল দ্বারা তিল তিল করে এই বিশ্বাস আয়ত্ব করে থাকেন। ডেল কার্নেগী বলেছিলেন- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীতে সেনা নিয়োগ করার কালে যাদেরকে বাহিনীতে নেওয়া হবে তাদের প্রত্যেকের সাঁতার জানা আবশ্যিক। ফলে যারা সাঁতার জানত না তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া আরম্ভ হয়। এই সাতারকে যারা ভয় করত প্রথমত দু-একদিন পরে তারা আর ভয় পেল না। সেই কাজটিকে স্বাভাবিক বলে মনে হতে লাগল তাদের।

‘ অতএব কাজের মধ্য দিয়েই কাজের ভয় দূর করুন। ভয় করলেই ভয়-নচেৎ নয়।

সাফল্য লাভ করতে কি ত্যাগ করতে হবে

প্রিয় পাঠক

Social Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *